নববী জবানে দুরুদের ফাজায়েল ০৯

নববী জবানে দুরুদের ফাজায়েল ০৯

চেহারায় বিশেষ নূর

হজরত আলী রাদি. বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর একশত বার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে সে কেয়ামতের দিন এমনভাবে উঠবে যে তার চেহারায় বিশেষ এক প্রকার নূর চমকাতে থাকবে। (এ বিশেষ নূর দেখে) লোকেরা পরস্পরে জিজ্ঞাসা করতে থাকবে এই ব্যক্তি কী আম করত?”

[শুআবুল ঈমান হাদিস নং- ২৭৭৪/ মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ ]

 

দোয়ায় সালাত 

শুরুতে মাঝে শেষে

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা আমাকে আরোহীর পানির পাত্রের ন্যায় বানিও না। আরোহী খন সফরের নিয়ত করে, নিজের মালপত্র ঝুলিয়ে য় এবং পানির পাত্রে পানি ভরে লয়। পথিমধ্যে অজুর প্রয়োজন হলে ঐ পানি দ্বারা অজু করে। পিপাসা লাগলে পান করে। অন্যথায় (অজু বা পান করার প্রয়োজন না হলে- সফর শেষে ঐ পানি) ফেলে দেয়। সুতরাং, তোমরা তোমাদের দোয়ার মাঝেও এবং শুরুতেও এবং শেষেও আমাকে স্মরণ করো। অর্থাৎ দোয়ার শুরুতে মাঝে ও শেষে আমার ওপর সালাত পাঠ করো।

[ হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদি./ মুসান্নাফে আ. রাজ্জাক হাদিসনং-৩১১৭/ মাজলিসু ইলমী, আলহিন্দ ]

সুপারিশ-অধিকারী

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় দশবার করে আমার ওপর সালাত পাঠ করবে কেয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশের অধিকার লাভ করবে।

[ হজরত আবু দারদা রাদি./ মাজমাউস যাওয়ায়েদ হাদিস নং-১৭০২২/ মাকতাবাতুল কুদসী, কায়রো ]

পূর্ণ প্রতিদান

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, সে আহলে বাইতের ওপর দুরুদ পাঠ করে পরিপূর্ণ প্রতিদান লাভ করবে, সে যেন এভাবে বলে,

اللهم صل على محمد النبى وازواجه

 امهات المؤمنين وذريته واهل بيته كما صليت على الى ابراهيم انك حميد مجيد

[ হজরত আবু হোরাইরা রাদি./ সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-৯৮২/ দারুল কুতুব আলইলমিয়্যা, বৈরুত ]

 জুমার রাত ও দিনে

অধিক দুরুদের হুকুম

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা আলোকজ্জ্বল দিন (জুমার দিন) ও আলোকিত রণীতে (জুমার রাত) আমার প্রতি অধিক পরিমাণে দুরুদ প্রেরণ করো। নিশ্চয়ই তোমাদের দুরুদ আমা নিকট পেশ করা হয়।

[ হজরত আবু হোরায়রা রাদি./ মুজামুল আওসাত হাদিস নং-২৪/ দারুল হারামাইন, কায়রো ]

সর্বোত্তম শব্দে দুরুদ

হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবি লাইলা রাদি. বলেন, একদা কাব ইবনে উজরা রাদি.-এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে ঐ হাদিয়াটি দিব না, যা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের নিক শুনেছিআমি বললাম, কেন নয়? অবশ্যই আমাকে উক্ত হাদিয়াটি দান করুন। তিনি বললেন, একবার আমরা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরজ করলাম, আপনি ও আপনার আহলে বাইতের ওপর সালাত কীভাবে পাঠাতে হয়? নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আপনার ওপর সালাম পাঠানোর পদ্ধতি শিক্ষা দান করেছেন; (তবে সালাতের পদ্ধতি আমাদের জানা নেই)। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এভাবে বলো,

 اللهم صل على محمد وعلى ال محمد كما صليت

 على ابراهيم وعلى ال ابراهيم انك حميد مجيد اللهم بارك على محمد وعلى ال محمد. كما باركت على ابراهيم وعلى الى ابراهيم

 انك حميد مجيد

[ সহিহ বুখারী হাদিস নং- ৩৩৭/ দারুল কুতুব আল ইলমিয়‍্যাহ, বৈরুত ]


তিনটি বিরাট প্রাপ্তি

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার ওপর তোমাদের দুরুদ পাঠ- তোমাদের দোয়া কবুল করায়। রবের সন্তুষ্টি দান করে। তোমাদের আমল পবিত্র করে।

[ সাইয়্যেদুনা হজরত আলী ইবনে আবি তালিব রাদি./ আল ফিরদাউস বি-মাসুরিল খিতাহাদিস নং- ৩৭৩৯/ দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত ]

 সর্বাধিক মুক্ত

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, হে লোকসকল! নিশ্চয়ই কেয়ামতের দিন সে দিনের ভয়াবহতা ও কঠিন কঠিন ধাপগুলোতে তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বাধিক নিরাপদ ও মুক্ত থাকবে যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দুরুদ পাঠকারী হবে।

[ সাইয়্যেদুনা হজরত আনাস রাদি./ আল ফিরদাউস বি-মাসুরিল খিতাব হাদিস নং- ৮১৭৫/ দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত ]

কবুলিয়্যাতের শর্ত

সায়্যিদুনা হজরত আলী রাদি. বলেন, প্রতিটি দোয়া আকাশের মাঝে ততক্ষণ পর্যন্ত একটি 'বাধা' বিদ্যমান থাকে যতক্ষণ দোয়াকারী নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ না করে। খন সে দুরুদ পাঠ করে ঐ বাধাটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। দোয়া আকাশে উঠে যায়। আর যদি দোয়াকারী দুরুদ না পড়ে তো দোয়া ফিরে চলে আসে।

[ আলফিরদাউস বি-মাসুরি খিতাব, হাদিস নং ৬১৪৭/ দারুল কুতুব আলইলমিয়্যাহ, বৈরুত ]

জিকির ও দুরুদের মজলিসের ফজিলত

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালার কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যারা জিকিরের মজলিসের খোঁজে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। পেয়ে গেলে মজলিসের সকলকে বেষ্টন করে নেন। এরপর তারা তাদের দলনেতাকে আকাশের দিকে আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের নিকট প্রেরণ করে। সে বলে, আমরা আপনার এমন বান্দাদের নিকট থেকে এসেছি যারা আপনার নেয়ামতসমূহের সম্মান প্রদর্শন করছেআপনার কিতাব তেলোওয়াত করছে। আপনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ করছে এবং তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য প্রার্থনা করছে। তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, তাদেরকে আমার রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত করে দাও।

ফেরেশতা আরজ করেন, তাদেরকে তো আমরা আজাদ করে দিয়েছিকিন্তু তাদের মধ্যে অমুক বান্দা রয়েছে অনেক গোনাহগার। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, তাকেও আমার রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত করে দাও। তারা এমন লোক যাদের সাথে উপবেশনকারীকেও বঞ্চিত করা হয় না।

[ হজরত আনাস রাদি./ মুসনাদে বাযযার হাদিস নং-৬৪৯৪/ মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম,  আল মাদীনাতুল মুনাওয়ারাহ ]

 সত্তর রহমত

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. বলেন, যে ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর ফেরেশতারা ঐ ব্যক্তির ওপর সত্তর বার রহমত পাঠান।

[ মুসনাদে আহমাদ হাদিস নং-৬৭৫৪/ মুআসসাসাতুর রিসালাহ বৈরুত ]

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মস্ত চিঠির ক্ষুদ্র পত্র

পয়গামে মুহাব্বত

“সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধ্যা বেলা”