একীনে দরিয়া পার
একীনে দরিয়া পার
কোন কিতাবে একটি ঘটনা পড়েছিলাম। সংক্ষেপে বর্ণনা করছি। এক ইহুদী আর এক মুসলমান পাশাপাশি বাস করত। দুইজন প্রতিবেশী। ইসলামী হুকুমতের যুগে প্রকৃত ইসলামী খেলাফত যখন প্রতিষ্ঠিত ছিল- অমুসলিম জিম্মিদের হকের ব্যাপারে মুসলিমরা খুব সচেতন থাকতেন। খুব খেয়াল রাখতেন। হাদিস শরীফে ও ফেকহের কিতাবসমূহে জিম্মিদের অধিকার ও মাসাইল সংক্রান্ত
বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ইসলামের শিক্ষা হিসেবেই
ইহুদীর মুসলিম প্রতিবেশী তার সাথে সদ্ব্যবহারের প্রতি আলাদা যত্নশীল ছিল। মূল ঘটনা শুরুর পূর্বে দুরুদ শরীফ দ্বারা নিজের জবান ও দিল সুবাসিত করে নিন।
والمسلمات والمسلمين والمؤمِنَاتِ على المؤمنين وَصَلِّ لِكَ وَرَسُو عَبْدِكَ محمد سَيِّدِنَا اللهم صل على
মুসলিম লোকটির অভ্যাস ছিল কিছুক্ষণ পর পর নিচের বাক্যটি আবৃত্তি করত:
“হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ শরীফ প্রেরণ করলে প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।"
যে কেউ ঐ মুসলমানের সাথে সাক্ষাত করত সে অবশ্যই তাকে তার বাক্যটি শুনিয়ে দিত। যে কেউ তার সাথে সময় কাটাত সে এক বৈঠকেই অনেকবার এই বাক্য- শুনিয়ে দিত পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে। মজবুত ইয়াকিনের সাথে।
“হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ শরীফ প্রেরণ করলে প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।"
الْغَافِلُونَ ذِكْرِهِ عَنْ غَفَلَ كلما و الذاكرُونَ ذكره كلما مُحَمَّدٍ سَيِّدِنَا عَلَى صَلِّ اللهم
মুসলমান ব্যক্তির এ বাক্যটি তার দিলের ইয়াকিন ছিল। মনের দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই সে বলত। সে নিজে এ বাক্যের বরকত ও উপকার দিন-রাত নিজের জীবনে প্রত্যক্ষ করত। বাস্তবিকই এ বাক্যটি অতিরঞ্জিতও নয়; আত্মপ্রবঞ্চনাও নয়। হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম
নিজেই তাঁর খুব কাছের এক সাহাবী রা.-কে এই অজিফা দান করেছিলেন। "যদি সে তার জিকির-আযকারের পুরা সময় দুরুদ শরীফে কাটায়;
আল্লাহ তায়ালা তার দুনিয়া-আখেরাতের সকল প্রয়োজন পুরা করবেন।” অতীতে এমন মুসলমানও ছিলেন যারা গুনাহ ত্যাগ করতে পারছিলেন না; কিন্তু নিজেদের সুফারিশের জন্য দুরুদ শরীফের আমল চালু রাখার প্রতিজ্ঞা-হিম্মত
তারা করে নিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ শেষ জীবনে আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি মাগফেরাত ও রহমতের
ফায়সালা করেছেন। হ্যাঁ নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই
দুরুদ শরীফ মহামূল্যবান নেয়ামত। বহুত মকবুল অজিফা। অনেক উচ্চ স্তরের ইবাদত। এটাও আল্লাহ তায়ালার জন্যই ইবাদত। আল্লাহর হুকুমেই এ ইবাদত করা হয়। এটা এমন ইবাদত যা আল্লাহ তায়ালার বহুত পছন্দনীয় ইবাদত।
عَلَيْهِ نُصَلِّي أَنْ لَنَا يَنْبَغِي كما مُحَمَّدٍ سَيِّدِنَا عَلَى صَلِّ اللهم خَلْقِكَ مِنْ صلى من عَدَدَ مُحَمَّدٍ سَيِّدِنَا عَلَى صَلِّ اللهم
عَلَيْهِ نُصَلِّي أَنْ أَمَرْتَنَا كما مُحَمَّد سَيِّدِنَا عَلَى صَلِّ اللهم
মুসলমান ব্যক্তির এ বাক্যে ইহুদী প্রতিবেশীর খুব কষ্ট হত। ইহুদী হজরত আকায়ে মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মারাত্মক হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করত। দুশমনী মানসিকতা লালন করত। সে হুজুর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা-মহিমান্বিতা সম্পর্কে সামান্য কিছু শ্রবণের মত সৎ সাহস তার ছিল না। এ
প্রসঙ্গে বিন্দু-বিসর্গও
সে সহ্য করত না।
আমাদের যুগে আজকের পৃথিবীতে হুজুর আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের শানে মোবারকে বেয়াদবীমূলক যত নাপাক এজেন্ডা চলছে সবগুলোর পেছনে রয়েছে ইহুদীদের হাত। ইহুদীদের সম্পদ। ইহুদীদের উদ্দিপনা। ইহুদীদের মিডিয়া। ইহুদীরা আজও"
বনু কুরাইজা"-এর যুদ্ধকে ভুলেনি। তাদের নিকট বনু নজীর ও বনু কাইনুকার
শাস্তি আজও ভাস্বর হয়ে আছে। খাইবার বিজয় আজও তাদের গলায় কাঁটার ন্যায় বিঁধে। ইহুদী পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক পিশাচ,
নাপাক ও গোপন ষড়যন্ত্রকারী জাতি। ইসলাম দুশমনী তাদের জন্মগত স্বভাবজাত চরিত্র। ইহুদী মা তার নবজাতকের মুখে দুধের প্রথম ঢোক তুলে দেওয়ার পূর্বেই
তার অন্তরে ইসলামবিদ্ধেষের বিষ ঢুকিয়ে
দেওয়া হয়।
আলিমুল গাইব আল্লাহ তায়ালার ইলমে সবই আছে। ইহুদীদের তরফ থেকে কী কী ধরনের বিরুদ্ধাচরণের মুখোমুখি মুসলমানদের হতে হবে- তাও আল্লাহর ইলমে ছিল। তাইতো কুরআন মাজীদের সবচেয়ে বড় ও সম্মানী সুরা সুরাতুল বাকারায় এই উম্মতকে ইহুদীদের সাথে মোকাবেলার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। ইহুদীদের সকল দূরভিসন্ধি, বক্রতা ও ষড়যন্ত্রের প্রকার সম্বন্ধে মুসলমানদের সতর্ক করেছেন।
আজও যে কুলাঙ্গার রাসুল আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের শানে মোবারকের বিরুদ্ধে বেয়াদবীতে লিপ্ত মুসলমানদের উচিত তার পরিণতি কাব ইবনে আশরাফ ইহুদী ও আবু রাফে ইহুদীর অনুরূপ করা। এরূপ করা হলেই এই চরম ঘৃণিত অপরাধটির ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে; অন্তত দুর্বল তো হবেই। যদি রাসূলে আকদাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের মহিমান্বিত শানে মোবারকের বিরুদ্ধে বেয়াদবী করেও জীবিত ঘুরে বেড়ায় তাহলে উম্মত হিসেবে জীবিত থাকার কোন অর্থই বাকি থাকে না। আমাদের জীবন আমাদের সন্তানসন্ততি হজরত আকায়ে মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র নাম মোবারকের ওপর উৎসর্গিত।
وَسلم اله وَعَلَى الْقُرْآنِ سماء من الورق وجامع والفرقان الفرق صَاحِبِ مُحَمَّدٍ سَيِّدِنَا عَلَى صَلِّ اللهم
ঐ মুসলমানের বাক্যটির কারণে ইহুদী প্রতিবেশীর খুব কষ্ট হত। কিন্তু প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সে অপারগ ছিল। বিভিন্ন প্রয়োজনে, একাজে-সেকাজে মুসলিম প্রতিবেশীর সাথে তাকে সাক্ষাত করতেই হত। আর নিরুপায় হয়ে করা ঐ সাক্ষাতাবলির মাঝে তাকে বারংবার ঐ একই বাক্যের আবৃত্তি শুনতে হত।
"হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি
ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ শরীফ প্রেরণ করলে প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।”
مُحَمَّدٍ صلوة تنجينا بها من جميع
الأهوال والافاتِ وَتَقْضِي لنا بها جَميعَ الحاجات سَيِّدِنَا عَلَى صَلِّ اللهم
উপায়-অন্ত না পেয়ে ইহুদী একটি কুটচাল তৈরি করল। মুসলমান প্রতিবেশীকে মিথ্যুক প্রমাণ করার ফন্দি আটল। একটি কঠোর ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো শুরু করল। উদ্দেশ্য মুসলিমটিকে লাঞ্ছিত অপমানিত করা। এবং দুরুদ শরীফের মহান প্রভাবের বিষয়ে তার ঈমানকে দুর্বল করে দেওয়া। তার ঐ বাক্য আবৃত্তির শখ যেন চিরতরে মিটে যায়।
ইহুদী অভিজ্ঞ এক স্বর্ণকারের নিকট থেকে স্বর্ণের একটি আংটি বানাল। শর্ত করল এমন একটি আংটি বানাতে হবে সেটার হুবহু ডিজাউন সে জীবনে কাউকে বানিয়ে দেয় নাই আর দিবেও না। স্বর্ণকার শর্ত মোতাবেক আংটি বানিয়ে দিল। ইহুদী আংটি নিয়ে মুসলমানের নিকট আসল। কুশল বিনিময়ের পর মুসলমান তার সেই দাবি সেই দাওয়াত থেমে থেমে আবৃত্তি করতে থাকল।
"হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ শরীফ প্রেরণ করলে প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।”
اللهمّ صَلَّ عَلَى سَيِّدِنَا
مُحَمَّدٍ واله صَلوةَ أَنتَ لها أَهْل وَهُوَ لها أَهْلَ
শ্রদ্ধেয় পাঠক! চিন্তা করুন। মুসলমানের বাক্যটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে শুধু দুরুদ শরীফের দাওয়াত মনে হলেও মূলত প্রকৃতার্থে এটা ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতও ছিল। কেননা দুরুদ শরীফ তো সেই প্রেরণ করবে যে হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তায়ালার রসুল বলে বিশ্বাস করবে। ইহুদী মনে মনে বলল, অনেক হয়েছে। এ বাক্য তোমাকে চিরতরে ভুলিয়ে দেওয়া হবে। কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর ইহুদী বলল, আমি দূরভ্রমণে যাচ্ছি। আমার একটি মূল্যবান আংটি রয়েছে। তা আপনার নিকট আমানত রেখে যেতে চাই। ফিরে এসে আপনার কাছ থেকে ফেরত নিব। মুসলিম লোকটি বলল, কোন অসুবিধা নাই। আপনি নিশ্চিন্তে আংটি আমার নিকট রেখে যান।
“হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ প্রেরণ করলে প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।”
صلى الله على النبي الأمي صلى الله على النبي الأمي
ইহুদী আংটিটি মুসলমানকে বুঝিয়ে দিল। এবং খেয়াল করল মুসলমান আংটিটি কোথায় রাখে। রাতে গোপনে চুরির উপায়ে মুসলমানের ঘরে প্রবেশ করল। আংটিটি খুঁজে নিয়ে সন্তর্পণে-বের হয়ে চলে গেল। পরের দিন সমুদ্রে গিয়ে একটি নৌযানে আরোহণ করল। গভীর সমুদ্রে পৌঁছে আংটিটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করল। অতঃপর নির্ধারিত ভ্রমণে চলে গেল। সে নিশ্চিত ছিল ফিরে এসে যখন মুসলমানের নিকট আংটি চাবে সে ফেরত দিতে পারার প্রশ্নই আসে না। তখন আমি চুরি ও খেয়ানতের অপবাদ দিয়ে খুব ব্যাপক জানাজানি করে দিব। সকলের নিকট তার বদনাম করতে থাকব। মুসলমান
যখন চরম অপমান ভোগ করবে, তখন তার মনে জাগবে যে,
দুরুদ শরীফ দ্বারা কাজ হয় নাই। তখন আপনাআপনিই তার আবৃত্তি তার দাওয়াত শেষ
হয়ে যাবে। কিন্তু ঐ মূর্খ ইহুদী কীভাবে জানবে যে, দুরুদ শরীফ কত বড় নেয়ামত?
ইহুদী সফর শেষ করে ফিরে এল। এসেই মুসলমান লোকটির নিকট গেল। দেখা হওয়ামাত্রই নিজের আংটি ফেরত চাইল। মুসলমান বলল,
"হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ প্রেরণ করলে প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।”
আপনি
নিশ্চিন্তে আরাম করুন। আমি আজ সকালে দুরুদ শরীফের বরকতে দোয়া করে শিকারে বের
হয়েছিলাম। একটি বড় মাছ পেয়ে গেলাম। আপনি সফর থেকে এসেছেন- মাছ খেয়ে যাবেন।
মুসলিম তার স্ত্রীকে মাছ রান্না করতে পাঠাল।
হঠাৎ তার স্ত্রী চিৎকার করে উঠল এবং তাকে ডাকল। সে দৌড়ে যেতেই স্ত্রী বলতে শুরু করল, “মাছের পেটে স্বর্ণের আংটি! হবহু ঐ আংটির মতই যেটা আমরা আমাদের ইহুদী প্রতিবেশীর নিকট থেকে আমানত হিসেবে রেখেছিলাম।” মুসলিম দ্রুত ঐ স্থানে গেল যেখানে আমানতের আংটিটি সংরক্ষিত রেখেছিল কিন্তু সেখানে আংটি পেল না। সে মাছের পেট থেকে পাওয়া আংটিটি ইহুদীর নিকট নিয়ে এসেই বলতে শুরু করল,
“হজরত
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ প্রেরণ করলে
প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।”
اللهم صل على سيدنا محمد و ازواجه امهات الْمُؤْمِنِينَ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ علَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيد
এরপর সে ইহুদীর হাতে আংটিটি দিল। ইহুদীর চোখ ছানাবড়া। তার শরীর কাঁপছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। আওয়াজ-না-সরা কম্পিত কণ্ঠে সে জিজ্ঞাসা করল- “এই আংটি কোথায় পেয়েছো?” মুসলমানের সহজ উত্তর, “যেখানে রেখেছিলাম সেখানে তো পেলাম না। কিন্তু আজ যে মাছ শিকার করে এনেছি সেটার পেটে পাওয়া গেল। বিষয়টি আমারও বুঝে আসছে না। তবে যাই হোক আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহ পাকের শোকর- আপনার আমানত আপনি তো ফিরে পেয়েছেন এবং আল্লাহ তায়ালা আমাকে পেরেশানী থেকে বাঁচিয়েছেন।“
“নিশ্চয়ই হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ প্রেরণ করলে প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।
اللهم صل على محمد و على ال محمد كما صليت على ابراهيم و على ال ابراهيم انك حميد مجيد
ইহুদী কিছুক্ষণ কাঁপতেই থাকল। অতঃপর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে এবং শেষে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল। মুসলমান অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ ক্রন্দনের পর ইহুদী বলল, আমাকে গোসলের স্থান দেখিয়ে দাও। গোসল করে এসেই কালিমায়ে তাইয়্যিবা ও কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করতে লাগল।
সেও কাঁদছে। তার মুসলিম বন্ধুও কাঁদছে। মুসলমান তাকে কালিমা পড়াচ্ছে আর ইহুদী এই মহান কালিমা পড়ছে। ধীরে ধীরে যখন সে নিজেকে সামলে নিল মুসলমান তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করল। এই নও মুসলিম পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল। মুসলমানের দু চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল আর সে আপনা-আপনি বলতে থাকল-
“হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ
প্রেরণ করলে প্রতিটি দোয়া কবুল হয়। সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।”
اللهم صل و سلم و بارك و تحنن على سيدنا محمد و اله و سلم تسليما كثيرا كثيرا
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন