নববী জবানে দুরুদের ফাজায়েল ০১

নববী জবানে দুরুদের ফাজায়েল

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

বিশেষ নৈকট্য লাভ

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে মা ওপর বেশি দুরুদ পাঠকারী হবে, সে কেয়ামতের দিন আমার তত বেশি নৈকট্য প্রাপ্ত হবে।”

[ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি./সুনানে তিরমিজি হাদিস নং৪৮৪/ দারুল কুতুব আলইলমিয়্যাহ বৈরুত। ]

খাস রহমত

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে আমার ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশটি খাস রহমত  নাজিল করেন।”

[হজরত আবু হুরাইরা রাদি./ সহিহ মুসলিম- হাদিস নং ৪০৮/ দারুল কুতুব আলইলমিয়্যাহ বৈরুত]

গোনাহ মাফ

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে- আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশটি খাস রহমত নাজিল করেন। তার দশটি গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তার মর্যাদার অবস্থান দশ স্তর উন্নত করে দেওয়া হয়।”

[হজরত আনাস রাদি./ সুনানে নাসাঈ হাদিস নং-১২৯৪/ দারুল কুতুব আলইলমিয়্যাহ বৈরুত।]

আকায়ে মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উজ্জ্বল চেহারা

একদিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম তাশরিফ আনলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি য়াআলিহি ওয়াসাল্লামের নূর ঝলমল চেহারাখানি খুশির ঝলকানিতে আরো উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। আমরা নিবেদন করলাম, আমরা আপনার চেহারায় খুশি-আনন্দ দেখতে পাচ্ছি? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার নিকট ফেরেশতা এসে বলল, আপনার প্রভু ইরশাদ করেছেন, আপনি কি এতে আনন্দিত নন যে, যে কেউ আপনার ওপর একবার দুরুদ পাঠাবে- আমি অবশ্যই তার ওপর দশটি খাস ‘রহমত’ অবতীর্ণ করব। যে আপনার প্রতি একবার সালাম পাঠাবে- আমি তার প্রতি দশটি সালাম পাঠাবো।

[ হজরত আবু তালহা রাদি./ সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং ১২৮/ দারুল কুতুব আলইলমিয়্যাহ বৈরুত]

ফায়েদা:- আকায়ে মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের সকল আনন্দ-বেদনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল উম্মত। উম্মতের কল্যাণেই তিনি খুশি হতেন। উম্মতের যে কোনো দুঃসংবাদে তিনি চিন্তিত-বিচলিত-পেরেশান হতেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের আনন্দোজ্জ্বল চেহারায় প্রতিভাত হয়, দুরুদ শরীফের অনন্য উপায় অবলম্বনে যে নেয়ামত লাভ হয় তা অতি উচ্চ অত্যন্ত মূল্যবান। উম্মত অতি উচ্চ অত্যন্ত মূল্যবান হাদিয়া-নেয়ামত লাভ করবে এই আনন্দেই তাঁর চেহারা মোবারক আনন্দোজ্জ্বল।

আজ যদি কারো নিকট রাষ্ট্র প্রধানের স্পেশাল অভিনন্দন বার্তা আসে- আনন্দের আতিশয্যে তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়। ওয়াহ! ওয়াহ! ওয়াহ! দুরুদ ও সালামের বরকতে বান্দার নিকট আল্লাহ তায়ালার সালাম পৌঁছে। তাও একের বিনিময় এক নয় দশ পৃথক আবার খাস রহমত। আরো রয়েছে আকায়ে মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সালামের জবাব। আল্লাহ! আল্লাহ! আল্লাহ!

দুরুদ ও সাল্লামের কতই না উচ্চ মর্যাদা! এবং মালিকের কত অনুপম করুণা  তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর উম্মতের ওপর।

রহমতে এলাহী থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি

নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম একদা মিম্বারে তাশরিফ রেখে বললেন,  “আমিন, আমিন, আমিন।”

আরজ করা হলো, ইয়া রসুলাল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম! যখন আপনি মিম্বারে তাশরিফ নিলেন তখন আমিন, আমিন, আমিন বললেন (এর কারণ কী?) নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়আলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমাইলেন, (আমি মিম্বারে আরোহণ করার সময়) জিবরাইল আ. আমার নিকট এসে বললেন, যে ব্যক্তি মজান মাস পেল; অথচ সে ক্ষমা পেল না এবং সে জাহান্নামে চলে গেল; তাহলে আল্লাহ তাকে দূরে রাখুন। আপনি বলুন, আমীন ["তাহলে আল্লাহ তাকে দূরে রাখুন“ বাক্যটি একটি নেতিবাচক বা অভিশাপমলক বাক্য। ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তায়ালার লা'নত বর্ষিত হওয়ার বদ দোয়া হিসেবে ব্যবহৃত। আল্লাহর হুকুম লঙ্ঘন করে চরমভাবে দীন ও শরীয়তের বিরোধিতায় লিপ্ত ব্যক্তির জন্য এরূপ বদদোয়া করার প্রচলন আরবি সাহিত্যে  বিদ্যমান।] আমি বললাম, আমীন এরপর বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা বা উভয়ের মধ্যে যে কোন একজনকে পেল; অথচ তাদের সাথে উত্তম আচরণ-সদ্ব্যবহার করল না; এবং মৃত্যুর পর জাহান্নামে গেল; তাহলে আল্লাহ তাকে দূরে রাখুন। আপনি বলুন, আমীন আমি বললাম, মীন। (পুনরায় জিবরীল, বললেন) যে ব্যক্তির সামনে আপনার আলোচনা হল অথচ সে আপনার প্রতি দুরুদ পাঠ করল না; অতঃপর মৃত্যুর পর জাহান্নামে চলে গেল; তাহলে আল্লাহ তাকে দূরে রাখুন। আপনি বলুন, আমীন। তখন আমি বললাম, আমীন।

[ হজরত আবু হোরায়রা রাদি./ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৯০৭/ মুআস্সাসাতুর রিসালাহ বৈরুত।]


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মস্ত চিঠির ক্ষুদ্র পত্র

পয়গামে মুহাব্বত

“সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধ্যা বেলা”