নববী জবানে দুরুদের ফাজায়েল ০৩
নববী জবানে দুরুদের ফাজায়েল ০৩
আফসোস
নবী আকরাম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যারা একটি মজলিসে বসল; অথচ তাতে আল্লাহ পাকের কোনো জিকির করল না এবং নিজেদের নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরুদ প্রেরণ করল না; এই মজলিস তাদের জন্য বিপদ
হবে। আল্লাহ চাইলে তাদের আজাব দিবেন। চাইলে ক্ষমা করে দিবেন।
[হজরত
আবু হোরায়রা রাদি./ সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ৩৩৮/ দারুল কুতুব আলইলমিয়্যাহ বৈরুত।]
· হাদিসে বর্ণিত
“তিরতুন” শব্দের বাংলা করা হয়েছে “বিপদ”। অভিধানে শব্দটির অন্যান্য অর্থ হল, আফসোস, আগুন, গুনাহ, ক্ষতি, বিপদ।
জীবন ও খুশবু থেকে বঞ্চিত
রসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে লোকেরা কোনে
মজলিসে একত্রিত হল অতঃপর আল্লাহ পাকের জিকির ও নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি
ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ শরীফ পাঠানো ব্যতীত বৈঠক থেকে পৃথক হয়ে গেল তারা প্রকৃতার্থে
দুর্গন্ধযুক্ত মৃতের উপর থেকে উঠে গেল।
[ হজরত জাবের রাদি. / শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং- ১৪৬৯/ মাকতাবাতুর রশিদ, রিয়াদ।]
দোয়ায় দুরুদ থাকা চাই
নবী কারীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাজে দোয়া করতে শুনলেন। সে
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ করল না। নবী
আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন; ঐ ব্যক্তি তাড়াহুড়ো
করেছে। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং
তাকে অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) অন্য কাউকে সম্বোধন করে বললেন, যখন তোমাদের কেউ
নামাজ পড়ে শেষ করে সে যেন প্রথমে আল্লাহ তায়ালার হামদ-ছানা বর্ণনা করে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ করে। এরপর যা ইচ্ছা দোয়া করে।
[ হজরত ফুজালা বিন
উবাইদ রাদি./ সুনানে তিরমিজি,
হাদিস নং-৩৪৭৯/ দারুল কুতুব আলইলমিয়্যাহ বৈরুত।]
নবীজীর
জবানে রহমতের দোয়া
রসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার
ওপর দুরুদ পাঠ করে- তার দুরুদ আমার নিকট পৌঁছে। আমি তার জন্য রহমতের দোয়া করি। অধিকন্তু
তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়।
[ হজরত আনাস রাদি./
মু'জামুল
আওসাত হাদিস নং- ১৬৪২/ দারুল হারামাইন,
কায়রো।
দুরুদ
শরীফ লেখার ফায়েদা
রসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান, যে ব্যক্তি কোনো
লেখায় আমার ওপর দুরুদ পাঠায় (অর্থাৎ লিখে) যতদিন ঐ লেখায় আমার নাম থাকবে ততদিন ফেরেশতা
তার জন্য ইস্তেগফার করতে থাকবে।
[ হজরত আবু হোরায়রা রাদি./ মু'জামুল আওসাত হাদিস
নং-১৮৩৫/ দারুল হারামাইন,
কায়রো।]
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন